বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :

‘রেড জোন’ দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজার: কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

রেড জোন কক্সবাজার

বিশেষ প্রতিবেদক:

রেড জোনের আওতায় কক্সবাজারে চলছে ১৪ দিনের লকডাউন। রবিবার (৭জুন) দ্বিতীয় দিনের মতো লকডাউনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। লকডাউন পালনে সেনা সদস্যদের পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কক্সবাজারে ওষুধের দোকান ছাড়া সব ধরণের দোকাপাট বন্ধ রয়েছে। কক্সবাজার শহর ছাড়াও জেলা সদরের বাইরেও বেশ কিছু এলাকায় চলছে লকডাউন।

রামু ১০ পদাতিক সেনানিবাস সূত্র জানিয়েছেন, কক্সবাজারকে রেড জোন ঘোষনার পর থেকে মাঠে রয়েছে সেনা সদস্যরা। কক্সবাজার পৌর এলাকার পাশাপাশি ৭ জুন বিকাল থেকে চকরিয়া উপজেলার পৌর এলাকা এবং উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ২, ৩, ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডকেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের ‘রেড জোন’ হিসেবে ঘোষণা করার কারণে সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। উক্ত এলাকা সমুহের প্রধান সড়কগুলোতে সেনা চেকপোষ্ট স্থাপনের পাশাপাশি সেনা টহল কার্যক্রম বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এসব এলাকা গুলো পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত অবরূদ্ধ করে রাখা হবে বলেও জানা গেছে।

কক্সবাজারে দ্বিতীয় দিনের মতো লকডাউন চলাকালে সকাল থেকে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে সেনাবাহিনীর চেকপোষ্টে তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। সেনাসদস্যরা জরুরী প্রয়োজনে চলাচলরত ব্যক্তিদের আইডি কার্ড ও পরিচয়পত্র দেখে জিজ্ঞাসাবাদ সাপেক্ষে তাদেরকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছেন। একইভাবে ছোটখাটো কিছু যানবাহন যেমন টমটম, ইজিবাইক, অটোরিক্সা চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। সকালে পর্যটন শহরের লাবণী পয়েন্ট থেকে হলিডে মোড় হয়ে বাজারঘাটা ঘুরে ফাঁকাচিত্র দেখা গেছে। শুধু মূল সড়ক নয়, উপসড়কগুলো আটকে দেয়া হয়েছে। যাতে ওখান দিয়েও কোন যানবাহন চলাচল করতে না পারে। মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রিত করতে শহরের বিভিন্ন স্পটে রয়েছে সেনাসদস্যরা। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার দেখলেই থামাচ্ছেন তারা। জানতে চাচ্ছেন কেন বের হয়েছেন, কোথায় যাচ্ছেন? সদুত্তর না মিললেই সেনাসদস্যরা তাদেরকে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

অপরদিকে কক্সবাজারের প্রবেশমুখ লোহাগাড়া-চকরিয়া সীমানায় ইতিপূর্বেই সেনা সদস্যরা অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। জরুরি মালামাল নিয়ে আসা যানবাহনগুলোর গায়ে লেগে যেন করোনাভাইরাস জেলায় প্রবেশ না করতে পারে, সে কারণে গাড়িগুলোকে জীবাণুমুক্ত করে দিচ্ছে সেনাবাহিনী। এ লক্ষ্যে শহরের প্রবেশদ্বারে বিশেষায়িত একটি বুথ নির্মাণ করেছেন করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও জেলা করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির সমন্বয়ক মো. আশরাফুল আফসার জানান, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার বিবেচনায় প্রশাসন কক্সবাজার পৌর এলাকাকে দেশের প্রথম রেড জোন ঘোষণা দিয়ে শনিবার সকাল থেকে লকডাউন করেছিল। পাশাপাশি এ নিয়ে প্রশাসন জেলার আরো কয়েকটি এলাকাকে ঝূঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

“প্রাথমিকভাবে এসব ঝূঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে চকরিয়া পৌর এলাকা ও ডুলাহাজারা ইউনিয়ন, টেকনাফের পৌর এলাকা এবং উখিয়ার রতœাপালং ইউনিয়নের কোটবাজার স্টেশন সংলগ্ন আশাপাশের এলাকার ৩ টি ওয়ার্ড।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, ‘রোববার সকাল থেকে জেলার ঝূঁকিপূর্ণ এসব এলাকাকে নতুন করে রেড জোন ঘোষণা দিয়ে লকডাউন করেছে প্রশাসন। আগামী ২১ জুন রাত ১২ টা পর্যন্ত রেড জোন ঘোষিত এসব এলাকা লকডাউনের আওতায় থাকবে।’

তিনি আরো জানান, ‘লকডাউনের আওতায় থাকা এসব এলাকায় ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিকসহ সবধরণের সভা-সমাবেশ বা গণজমায়েত বন্ধ থাকার পাশাপাশি কাঁচা বাজার, মুদির দোকান, মার্কেট ও বিপণী বিতান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। বন্ধ থাকবে ব্যক্তিগত ও যে কোন ধরণের গণপরিবহন। এসময় মানুষকে ঘরে অবস্থানের নির্দেশনাও রয়েছে’।

আশরাফ বলেন, শুধুমাত্র ফার্মেসিসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারি প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন, কোভিড-১৯ মোকাবিলার কাজে ব্যবহৃত গাড়ী চলাচল করতে পারবে। এছাড়া সপ্তাহের রোববার ও বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে খোলা থাকবে কাঁচা বাজার ও মুদির দোকানসহ নিত্যপণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। রেড জোন ঘোষিত এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত মাঠে তৎপর রয়েছে।’

এদিকে কক্সবাজার পৌর এলাকায় লকডাউন শুরুর দ্বিতীয়দিন রোববার সকাল থেকে প্রধান সড়কসহ উপসড়ক ও অলিগলিতে প্রথমদিনের তুলনায় বেশী সংখ্যক যানবাহন ও মানুষের চলাচল শুরু হয়েছে। খুলেছে বেশ কিছু দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রাস্তার ফুটপাতে বসেছে হকারিরাও। এছাড়াও রাস্তায় বের হওয়া মানুষদের দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলাচল করতে।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশরাফ আরো বলেন, ‘প্রশাসনের নির্দেশনা মতে রোববার লকডাউনের কিছুটা শীতলতা থাকায় রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল বেড়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত। তারপরও লকডাউনের নির্দেশনা অমান্যকারিদের বিরুদ্ধে সোমবার থেকে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে জানান তিনি।’

উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলায় শনিবার পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৯৬৪ জন। এদের মধ্যে দেশে ‘প্রথম রেড জোন’ ঘোষিত কক্সবাজার পৌর এলাকার ৩১৭ জন। জেলায় আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এর মধ্যে কক্সবাজার পৌর এলাকার রয়েছে ১৩ জন।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION